ভারতের রফতানি পণ্যের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত শুল্ক দেশটির অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। অর্থনীতিবিদদের এমন সতর্কবার্তার মাঝে সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খবর এফটি।
রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) গতকাল সুদহার বা রেপো রেট ৫ দশমিক ৫ শতাংশে ধরে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত অধিকাংশ অর্থনীতিবিদের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গত জুনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতি বাড়াতে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ৫০ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়েছিল আরবিআই। এর ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে ভারতে সুদহার কমেছে মোট ১ শতাংশীয় পয়েন্ট।
গত সপ্তাহে ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় বেশি। ১ আগস্টের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মোদি প্রশাসন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ শুল্ক প্রযোজ্য হচ্ছে।
২৫ শতাংশ ছাড়াও ভারতের ওপর আরো শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের অর্থনীতিকে ‘মৃতপ্রায়’ বলে উল্লেখ করে জানান, সস্তা রুশ জ্বালানি তেল আমদানির জন্য দিল্লিকে শাস্তি দিতে চান তিনি।
সুদহার অপরিবর্তিত রাখা প্রসঙ্গে আরবিআইয়ের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা গতকাল জানান, ভারতে শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এখনো চলমান। মুদ্রানীতির প্রভাব অর্থনীতিতে এখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। এছাড়া ফেব্রুয়ারি থেকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানোর প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। এ কারণেই সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
শুল্ক অনিশ্চয়তাজনিত আশঙ্কার মাঝেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে আরবিআই। তবে সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, চলমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা—এ সবকিছুই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।’
এদিকে ভারতের মূল্যস্ফীতি কমে জুনে ছয় বছরের সর্বনিম্ন ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভারত আরো শুল্ক বৃদ্ধির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকে রিজার্ভ ব্যাংক রুপি বিনিময় হার রক্ষায় মার্কিন ডলার বিক্রি করছে। বর্তমানে রেকর্ড সর্বনিম্নের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে রুপির বিনিময় হার।
মুম্বাইয়ের এক ব্যাংকারের মতে, রুপি বাজারের অস্থিরতা রোধে রিজার্ভ ব্যাংক যে হস্তক্ষেপ করছে তা স্পষ্ট। তবে আরবিআই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এছাড়া ভারতে বিদেশী বিনিয়োগ প্রত্যাহারের প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলেও রুপির ওপর চাপ বেড়েছে।
নুভামা ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটিজের বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কারণে ভারতীয় অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক এক অংকের প্রবৃদ্ধিতে নেমে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঋণপ্রবাহ, রফতানি ও করপোরেট আয়। ভারতের এসব অর্থনৈতিক দুর্বলতা ভবিষ্যতে সুদহার আরো কমানোর যুক্তিকে জোরালো করে তুলছে।